মেনু

প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য

ভূমিকা:

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম “পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” মানবজাতির ইহ ও পরলৌকিক সফলতার মূল মন্ত্রটিই প্রতিধ্বনিত হয়েছে মহান ঐশিগ্রন্থ আল কুরআনের এ বাণীতে। পৃথিবীর একমাত্র বিশুদ্ধ ও নিভুর্লগ্রন্থ, মানবজাতির মুক্তির সংবিধান পবিত্র আল কুরআন হিফজ (মুখস্থ) করার অসংখ্য ফজিলত কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত রয়েছে। তাই আমাদের দেশের প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ছোটবেলা থেকেই ঐশিগ্রন্থ আল কুরআন হিফজ (মুখস্থকরণ) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তবে প্রচলিত মাদরাসায় হিফজের পাশাপাশি কুরআনের বাস্তব জ্ঞান তথা আধুনিক শিক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। প্রকৃতপক্ষে কুরআন হিফজের কারণে শিক্ষার্থীর মেধা বিকশিত এবং উৎকর্ষিত হয়, ফলে তা আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তরায় না হয়ে আরো বেশী সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সুতরাং উন্নত পরিবেশে হিফজের পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষাদান ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবী।

অপরদিকে নৈতিকতা বিবর্জিত আধুনিক শিক্ষা যেমনিভাবে মানবতার কল্যাণ সাধনে সক্ষম নয়, ঠিক তেমনিভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করে গড়ে উঠা ধমীর্য় শিক্ষা এবং এর ধারকদেরকে পরনির্ভরশীলতায় পরিণত করে। তাই “ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট মাদরাসা” বাংলাদেশে এমন এক বিস্ময়কর শিক্ষার ব্যবস্থার কথা বলছে, যেখানে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামী শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয়ের পাশাপাশি ক্বাওমি নিসাব, মাদানী নিসাব ও ন্যাশনাল কারিকুলামকে অত্যন্ত সুনিপুনভাবে ৪ বছরের শিশুকাল থেকে ১৬ বছরের ছাত্র/ছাত্রী এসএসসি (দাখিল) ও বেফাকের অধীনে কুদুরী/কাফিয়া সম্পন্ন করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ। পর্যায়ক্রমে ক্বওমী নেসাবের দাওরায়ে হাদীসের সাথে সাথে কলেজ লেভেলের ঐঝঈ /আলিম এবং ভার্সিটি পর্যায়ের অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করতে পারবে। যার বাস্তবসম্মত সিলেবাস ও কারিকুলাম প্রণয়নও করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

সে লক্ষ্যে, সু-পরিকল্পিতভাবে বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সময়োপযোগী পদ্ধতির সাথে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনায় সচেতনতা ও জবাবদিহিতার অনুভূতিকে সার্বক্ষনিক জাগ্রত করে উন্নত পাঠ্যক্রম প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষাদানে ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ লাভের দীপ্ত প্রত্যয় নিয়ে “ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট মাদরাসা” ২০০৮ ইং থেকে নতুন দিগন্তে যাত্রা শুরু করেছে। আল্লাহ তা’য়ালার সমীপে আমাদের এ নেক প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে তাঁর দয়া, রহমত, নুসরত কামনা করছি। আমীন

যাদের জন্য জেনারেল ও এ্যারাবিক সিলেবাসের এ সমন্বয় সাধন

ইসলামের সূচনা কাল থেকেই ইসলাম বিরোধী বাতিল শক্তি ইসলাম ও মুসলিম জাতি নিধনে এতটাই তৎপর যে, বাতিল শক্তি বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন অবয়বে তার পূর্ণ শক্তি ব্যয় করে ইসলাম ধ্বংসের প্রয়াসে কসুর করেনি।

কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে সে বাতিল শক্তি আরো বেপরোয়া হয়ে ইসলাম ধ্বংসে যারপরনাই উঠে পড়ে লেগেছে। বাতিল শক্তিগুলো বিভিন্ন ফেৎনার রুপ ধারন করে পৃথিবীর মাঝে মহা সত্য ধর্ম ইসলামকে একের পর এক আঘাত করেই চলেছে। তাই মুসলিম জাতি হিসেবে সেই বাতিল শক্তির বিভিন্ন রূপ চিহ্নিত করে তার মোকাবেলায় সর্বশক্তি ব্যয় করাই হলো সময়ের অন্যতম দাবী। আর সে দাবীকেই পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামী শিক্ষা ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো ছাড়া অনেকটাই অসম্ভব। কারণ জাগতিক জ্ঞানের ভিত্তিতেই বাতিল শক্তি তার পূর্ণরূপ প্রকাশ করে। এবং মুসলিম জাতিকে কোণঠাসা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তাই তাদের সমুচিত জবাব কেবলমাত্র সমন্বিত শিক্ষা ছাড়া সম্ভব নয়। ফলশ্রতিতে সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করা বুদ্ধিবৃত্তিক ও ফলপ্রসু কাজ হবে (ইংশাআল্লাহ)। তাই এ সমন্বয় ঘটানো ইসলামী চিন্তাবিদগনের মতে সময়ের সাহসী পদক্ষেপ বলে পরিগণিত হয়েছে।

লক্ষ ও উদ্দেশ্য

একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানময় পৃথিবীতে বহুবিধ চ্যালেঞ্জের যুগে ধর্মহীন কর্মশিক্ষা বা কর্মহীন ধর্মশিক্ষা একেবারেই পরিত্যাজ্য হয়ে পড়েছে। সন্তানদের ধর্ম ও কর্ম উভয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে, ধর্মীয় ও পার্থিব উভয় ধারায় সর্বোত্তম কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অভিপ্রায় নিয়ে আমাদের এই মহৎ ও বৃহৎ পথে যাত্রা।

ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট মাদরাসা এর বিশেষত্ব

বিশেষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমি বৈশিষ্ট্য

এক নজরে সমন্বিত বিভাগসমূহ

শ্রেণী/বিভাগ (ব্যাখ্যামূলক)

অত্র প্রতিষ্ঠানটি জেনারেল ও এ্যারাবিক (মাদরাসা) শিক্ষা সমন্বিত একটি আধুনিক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শ্রেণী/বিভাগের বৈশিষ্ট্য



নূরানী বিভাগ + প্লে - নার্সারী/কেজি শ্রেণী

শিক্ষাকাল ২ বছর

নাজেরা বিভাগ + প্রথম শ্রেণী

শিক্ষাকাল ১ বছর

হিফজুল কোরআন + জেনারেল

শিক্ষাকাল ৩ বছর

স্কুল + হিফজুল কুরআন

শিক্ষাকাল ৭ বছর

স্বতন্ত্র হিফজুল কুরআন

শিক্ষাকাল ৩ বছর

হিফজ রিভিশন গ্রুপ

শিক্ষাকাল ৩ বছর

এ বিভাগে সদ্য কুরআনে হাফেজদের অধিকতর ইয়াদ করানোর লক্ষ্যে কুরআন হিফজ ও শুনানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

হিফজ মুসাবাক্বাহ গ্রুপ

শিক্ষাকাল ১ বছর

প্লে গ্রুপ থেকে ১০ম (দাখিল) শ্রেণী + ১ম জামাত থেকে কুদুরী/কাফিয়া (সমন্বিত বিভাগ)

শিক্ষাকাল ১২ বছর

কো-কারিকুলাম

শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্র/ছাত্রীদের মেধা বিকাশের জন্য এখানে রয়েছে বহুমুখি সহপাঠ্যক্রম।

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা ও আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার প্রধান সহায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত ইংলিশ ও এ্যারাবিক স্পোকেন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বচনভঙ্গি, উচ্চরণশৈলি ঠিক করতে ও যে কোনো মঞ্চে সাহসের সাথে বিষয় ভিত্তিক বক্তৃতা প্রদানের সহজতার জন্য নিয়মিত বক্তৃতা প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের চতুর্মূখি যোগ্যতা, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহে হামদ, নাত ও ইসলামী সঙ্গীত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

নামাজসহ ফিকাহ শাস্ত্রের বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল প্রতিযোগীতা ও প্রাক্টিক্যাল আমল

শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশপাশি সেই শিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাক্টিক্যালভাবে প্রত্যেকটি বিষয় শেখানো হয় এবং প্রতিযোগীতার মাধ্যমে বিষয়টিতে সকল শিক্ষর্থীদের উদ্বুদ্ধ করানো হয়।

সাধারণ জ্ঞান ও ইসলামি জ্ঞান প্রতিযোগিতা

প্রাচীন ও সমকালীন বিশ্বের এবং ইসলামী ইতিহাসের নানান বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে আরো শানিত করতে সাধারণ জ্ঞানের আসর ও প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা করা হয়।

সাহিত্য আসর

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বচন ও লিখন শক্তি শানিত করতে এবং বাংলা ভাষায় নিগুঢ় দক্ষতা অর্জনে সাহিত্য শেখার বিকল্প নেই।

কেননা, সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষকে যে কোনো বিষয় সহজে বোধগম্য করানো সহজ হয়। সেই লক্ষেই প্রতিমাসে বাংলা সাহিত্যের আসর হয়।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবী গ্রামার প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগীতা।

ক্লাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের সহজবোধ্যভাবে ভাষাচর্চা ও বিদেশী ভাষা আত্মস্থ করানোর লক্ষ্যে ভাষা, ব্যাকরণ প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা করা হয়।

বার্ষিক শিক্ষা সফর

প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও সুস্থ্য বিনোদন দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন দর্শণীয় স্থানে ভ্রমনের ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলন ঘটে।

শিক্ষা পদ্ধতি

মানবন্টন

মোট মূল নম্বর-১০০, পাশ নম্বর- ৩৩

পাঠ পরিকল্পনা

প্রতিটি বিষয়ের CT, LT, WT, MT ও Semester Exam এর সময়সীমার আলোকে পাঠ পরিকল্পনা করা হয়। প্রত্যেক শিক্ষক/শিক্ষিকা প্রতিটি সেমিস্টারের পূর্বে সিলেবাসের আলোকে Lesson Plan(পাঠ পরিকল্পনা) তৈরী করে থাকেন।

ডায়েরি/শীট সংরক্ষণ

শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীর দৈনিক পড়ার বিষয়বস্তু, পড়ালেখার অবস্থা, নৈতিক মান, ব্যক্তিগত আচার-আচরণের অবস্থান এবং উপস্থিতিসহ সার্বিক পারফরমেন্স এর তথ্য অভিভাবকবৃন্দের অবহিত হওয়া প্রয়োজন।

সেজন্য সকল শিক্ষার্থীর ডায়েরি সংরক্ষন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে Phone/Sms এর মাধ্যমে বা মাদরাসার নিজস্ব Website/Software এ Login এর মাধ্যমে তার বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সেই রিপোর্টের আলোকে অভিভাবকগণ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুযোগ পান। আর এই রিপোর্টটিই হচ্ছে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে সেতুবন্ধন।

শিক্ষাবর্ষ ও ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য

শিক্ষার মাধ্যম: বাংলা, ইরেজী, আরবী।

শিক্ষাবর্ষ: ক্যাডেট বিভাগ/সমন্বিত বিভাগঃ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর।

হিফজুল কুরআন বিভাগঃ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর এবং শাওয়াল মাস থেকে রমাদ্বন।

অফিস থেকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ভর্তি ফরম ও প্রসপেক্টাস সংগ্রহ করতে হয়।

ক্যাডেট বিভাগে প্রতি বছর ১লা নভেম্বর হতে পরবতীর্ বছরের জন্য ভর্তি শুরু হয়।

এছাড়া শর্ত সাপেক্ষে সারা বছর ভর্তি হওয়া যায়।

ভর্তি ফরমের সাথে যা দিতে হবে

মাদরাসার নির্ধারিত ইউনিফর্ম

বালকঃ

(মোট ৩ সেট বানাতে হবে) মাস্টার (খাকি) কালারের শেরওয়ানী, যার কলার এবং পুরো প্লেট (সামনের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত) এ্যামব্রয়ডারী, বুকের বামপাশে পকেট এবং পকেটের উপর মাদ্রাসার মনোগ্রাম খঁচিত ব্যাচ, মাস্টার (খাকি) কালারের স্যালোয়ার, সাদা কেড্স, সাদা মোটা গোল টুপি, (শীতকালের জন্য নেভি ব্লু কালার সোয়েটার)

বালিকাঃ

(মোট ৩ সেট বানাতে হবে) প্লে, নার্সারী, কেজি ও প্রথম শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের মাস্টার কালারের কামিজ, দুই হাতায় সাদা চিকন ডাবল পাইপেন, কোমরে সাদা বেল্ট, সাদা স্যালোয়ার যার নিচের প্লেট হবে খাকী কালার, সাদা গোল হিজাব যার চতুরপার্শ্বে মাস্টার কালারের চিকন ডাবল পাইপেন, কপালের উপর খাকি কালার পট্টি ও ডান পার্শ্বে মাদরাসার মনোগ্রাম সম্বলিত ব্যাজ ও কালো জুতা (শীতকালের জন্য লাল কালার সোয়েটার)

বাৎসরিক ছুটি

ক্লাস গ্রহণঃ প্রতি শনি থেকে বৃহস্পতিবার। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ, তবে আবাসিকদের জন্য নয়।

অনাবাসিক ও ডে-কেয়ার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। আগ্রহী অভিভাবকবৃন্দ নির্ধারিত ফরম পূরণ করতঃ ফি পরিশোধের মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

অর্জন